in

স্ত্রীর মান ভাঙানোর ৭ কৌশল

মান-অভিমান, রাগ-দুঃখ- দাম্পত্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এগুলো। সংসার মানেই হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সহ আরও কত কি। বিশেষ করে একসাথে চলতে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টুকটাক অভিমান হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এতে করে স্বামী অল্পবিস্তর কষ্ট পেলেও, স্ত্রীরা সেই অভিমান পুষে রাখেন অনেক দিন। সম্পর্কেও পড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব। তাই স্ত্রীর মান যেন খুব দীর্ঘস্থায়ী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্ত্রী রাগ হওয়ার সময় নিজে নিয়ন্ত্রণে থাকুন এবং কিছু উপায়ে তার রাগ কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনুন। এই উপায়গুলো একটু দেখে নেওয়া যাক।

#1 স্ত্রীকে অবাক করে দেওয়ার মতো প্রেমময় কিছু করুন

মনোবিদরা বলেন, খুব রাগী ব্যক্তির সামনেও যদি খুব আশ্চর্যজনক কিছু করা হয়, তবে টুপ করে তার রাগটা পড়ে যায়। স্ত্রীকে মান ভাঙাতে এই কাজটি করা যেতেই পারে। বিশেষ কোনো উপহারের কথা চিন্তা করতে পারেন। উপহারটা যে খুব দামী হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। হতে পারে সেটা দামের দিক থেকে খুবই সস্তা, কিন্তু আবেগ তৈরির ক্ষেত্রে খুবই মূল্যবান।

স্ত্রীকে অবাক করে দিতে সারপ্রাইজ পার্টিও দিতে পারেন। কিংবা সুন্দর এক গুচ্ছ ফুলও আপনার স্ত্রীর মান ভাঙিয়ে দিতে পারে।

#2 স্ত্রীর জন্য একটি ছুটির দিন

একঘেয়ে জীবন থেকে স্ত্রীকে বের করে আনতে আপনার একটা ছুটির দিন তাকে দিতেই পারেন। তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে চলে যান। কেনাকাটার জন্য বাইরে যেতে পারেন। আবার কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পরিবেশেও চলে যেতে পারেন। আপনার স্ত্রী যে ধরনের জায়গা পছন্দ করেন সেরকম কোনো স্থান বেছে নিতে পারেন।

#3 একটি মিষ্টি কবিতা বা প্রেমের নোট লিখে ফেলুন

বর্তমানে মোবাইল ফোনের যুগে কেউ কাগজে কলমে কিছু লিখতে চান না। ফেসবুক, মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়েই সবাই তাদের অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করেন। সময়ে-অসময়ে যখন তখন তারা ফোনে মেসেজ করে মনের কথাগুলো প্রিয় মানুষটির কাছে পাঠাতে পারেন ঠিকই। কিন্তু একটা কাগজে লেখা চিরকূট বা প্রেমের কবিতায় আবেগের পরিমাণটা যত বেশি থাকে মোবাইলের মেসেজে হয়তো ঠিক তেমনটা নয়। অভিমানী স্ত্রীর হৃদয় ছুঁয়ে দিতে ছোট্ট একটু আবেগী চিঠি বা একটি কবিতার চেয়ে মোক্ষম দাওয়াই কিছু হতেই পারে না। 

#4 তার পছন্দমতো অন্তরঙ্গ কিছু সময় কাটান

স্ত্রীর মান ভাঙাতে তার পছন্দমতো একটু অন্তরঙ্গ সময় কাটান। যদি তিনি সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন তবে যে সিনেমাটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি সেটার টিকিট কিনে আনুন। যদি তিনি রেস্তোরায় গিয়ে খেতে পছন্দ করেন, তবে তাকে নিয়ে ডিনারে যান। তিনি যে খাবারটি খেতে পছন্দ করেন আপনি সেটা রান্না করতে শিখুন। তাকে নিয়েই তৈরি করে ফেলুন তার পছন্দের ডিশ। এভাবে স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাবার চেষ্টা করুন, তিনি যেন বুঝতে পারেন যে আপনার কাছে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

#5 ভাল শ্রোতা হন

অনেকেই আছেন যারা স্ত্রীর কথা বলতে গেলেই অবহেলার দৃষ্টিতে তাকান। ভাবটা এমন যে, স্ত্রীর কথায় এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কী আছে। এভাবেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশাল এক দুরত্ব তৈরি হয়। স্ত্রী এক সময় হয়তো কিছু বলাই ছেড়ে দেন। অথবা স্বামীর কথাও হেলাফেলা করতে শুরু করেন। এজন্য স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ভালো শ্রোতা হওয়াটা খুব দরকার। আর যদি অভিমানী স্ত্রীর মান ভাঙাতে চান, তাহলে ভাল শ্রোতা হওয়ার বিকল্প নাই। স্ত্রী যখন কিছু বলেন তখন মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে তার দিকে তাকান। তিনি কী বলতে চান সেটা মনযোগ দিয়ে শুনুন।  

#6 রসবোধটা বজায় রাখুন

যখন কেউ রেগে যান তখন আপনার রসবোধই পারে তাকে শান্ত করতে। কিন্তু এক্ষাত্রে খেয়াল রাখা দরকার যে, রসবোধ আর সস্তা রসিকতা এক জিনিস নয়। স্ত্রী রেগে গেলে আপনি কঠিন কোনো কথা না বলে আপনার রসবোধের সাহায্যে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করুন। কি বললে স্ত্রী খুশি হবেন সেটা অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। হতে পারে একটি ছোট সেলফি।

#7 স্ত্রী জন্য কষ্টকর ঘরের কাজগুলো করুন

ঘরের এমন কাজ করুন যেগুলো করতে আপনার স্ত্রী একেবারেই পছন্দ করেন না, বা যেগুলো আপনার স্ত্রীর জন্য কষ্টকর। যেমন- অনেক স্ত্রীই মশারি টাঙাতে একেবারেই পছন্দ করেন না। আবার অনেকে কাপড় স্ত্রী করতে বিরক্ত হন। স্ত্রীর এই কাজ করে দিলে তার রাগ কমে যেতে বেশি সময় লাগে না। আবার  রান্নার কাজও স্ত্রীর জন্য একঘেয়ে হয়ে যায় প্রায়ই। আপনি যদি এই কাজগুলোতে স্ত্রীকে একটু সাযায্য করেন তাহলে নিশ্চিতভাবেই তার জমে থাকা রাগ কিছুটা হলেও কমবে।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

সেলফোন, নাকি বিড়ম্বনার কারখানা?

এমপি হয়ে চুলের বিজ্ঞাপন, বিপদে মিমি চক্রবর্তী