in

বিদেশে আমেরিকান চেনার ২০ উপায়।

আপনি যখন নিজের শহরে রাস্তায় হাঁটছেন, তখন বিদেশি কাউকে দেখলে সহজেই বুঝে ফেলবেন যে তিনি আপনার দেশের বাসিন্দা নয়। কিন্তু তিনি কোন দেশ থেকে এসেছেন সেটা কি বুঝতে পারবেন? এটা কিন্তু বেশ মুশকিল কাজ। একেকজনের শারীরিক গড়ন, ভাষা, পোষাক-আষাক এবং আচার আচরণে বোঝা যায় তিনি কোন দেশের মানুষ। আমেরিকানদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে এমন ২০টি উপায় তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসেই আপনি চিনে নিতে পারবেন একজন আমেরিকানকে।

#1 গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীতে বরফ চাই পানীয়তে

ঠা ঠা রোদ কিংবা হাড় কাঁপানো ঠান্ডা সময়টা যেমনই হোক না কেন পানীয়তে বরফ লাগবেই আমেরিকানদের। খাবার পানি, ওয়াইন, সোডা কিংবা শরবত সবটাতেই তাদের বরফ চাই-ই চাই। শারীরিক গড়নের আর ভাষার সঙ্গে পানীয়তে বর০ফ নেওয়ার এই অভ্যাসটি দেখলে সহজেই একজন আমেরিকানকে চিনে নিতে পারেন আপনি।

#2 বেসবল ক্যাপ পরা

আমেরিকানদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হলো বেসবল। অবসর সময়ে বেসবল খেলেন না এমন আমেরিকান খুঁজে পাওয়া দায়। বেসবল ক্যাপটাও আমেরিকানদের খুব পছন্দের একটি অনুষঙ্গ। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান না কেন একটা বেসবল ক্যাপ সাথে অধিকাংশ আমেরিকান।

#3 সাদা মোজা পরা

পৃথিবীর সব দেশের মানুষই মোজা পড়েন। আমেরিকানরা এক্ষেত্রে কয়েক ধাপ এগিয়ে। ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে সাদা মোজা পড়েন না এমন আমেরিকান বিরল। স্নিকার্স, শু কিংবা স্যান্ডেল- সবকিছুর সঙ্গেই সাদা মোজা বেছে নেন আমেরিকানরা।

#4 নিখুঁত ঝকঝকে সাদা দাঁত

স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হলো আমেরিকা। দাঁতের যাবতীয় সেবাও সেখানে খুব সহজেই মেলে। এজন্য আঁকাবাঁকা বিশ্রী দাঁতের আমেরিকানদের দেখা খুব একটা পাওয়া যায় না। দাঁতের যেকোনো খুত ছোটবেলাতেই সারিয়ে ফেলেন তারা। ডেস্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁতগুলো হোয়াইটেনিংও করেন নিয়মিত।

#5 হাত তালি

সব দেশের মানুষই স্টেজ পারফর্মেন্সের শেষে হাত তালি দেয়। কিন্তু আমেরিকানরা শুধু স্টেজ পারফর্মেন্সই নয়, সিনেমা, টিভি সিরিয়াল কিংবা রেডিওর অনুষ্ঠানগুলোর পরেও হাত তালি দেয়।

#6 সম্বোধন যখন ‘ব্রো’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে মানুষকে সম্বোধন করা হয়। আমাদের দেশে যেমন ‘এই ভাই’ বলে অচেনা অজানা যে কারো সাথে আলাপ জুড়ে দেওয়া যায়, ব্রিটিশরা যেটাকে একটু সম্মানের সঙ্গে বলেন স্যার, আমেরিকায় সেটাই হলো ব্রো। ‘ব্রো’ সম্বোধনে আমেরিকানরা যে কারও সাথে পরচয় জমিয়ে ফেলতে পারে।

#7 অদ্ভুত পকেট

বিদেশ বিভূঁইয়ে আমেরিকান চেনার আরেকটি উপায় হলো তাদের পোশাকগুলোতে অদ্ভুত সব পকেট থাকে। দেখা যায়, কোমড়ের কাছের বেল্টেই ৫/৭টা পকেট নিয়ে ঘুরছেন তারা।

#8 হাঁটতে হাঁটতে খাওয়া

বিশ্বের অনেক দেশেই হাঁটতে হাঁটতে খাওয়াটাকে অভদ্র আচরণ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আমেরিকায় তেমনটি নয়। হাঁটার সঙ্গে খাওয়া আমেরকানদের কাছে খুব সাধারণ একটি বিষয়।

#10 হাই ফাইভ

বিদেশ বিভূঁইয়ে দুজন আমেরিকানের দেখা হবে, আর তারা হাই ফাইভ করবেন না এ হতেই পারে না। বিদেশে হঠাৎ করে দুজন আমেরিকানের দেখা হয়ে গেলে সব কাজ বাদ দিয়ে তারা গল্প করতে বসে যান। বিষয়টা এমন যে ‘বহুদিন পর কাছের কাউকে পেলাম’। সেভাবেই গল্পের ডালা খুলে বসেন তারা।

#12 মেট্রিক সিস্টেম অজানা

একজন আমেরিকান যত শিক্ষিতই হন না কেন তার কাছে মেট্রিক সিস্টেমে মাপামাপি অজানা হওয়াতাই স্বাভাবিক। কারণ পৃথিবীর তিনটি দেশের মধ্যে আমেরিকা একটি যেখানে পরিমাপের ক্ষেত্রে মেট্রিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয় না।

#14 অপরিচিতদের সাথে কথা বলা

ব্রিটিশরা সাধারণত অপরিচিতদের সাথে কথা বলতে চান না। কিন্তু আমেরিকানরা এক্ষেত্রে একেবারেও আলাদা। অচেনা যে কারও সাথে খুব সহজেই ভাব জমিইয়ে ফেলে তারা।

#15 মনের কথা খুলে বলা

সাধারণত অপরিচিত কারও সাথে নিওজের ব্যক্তিগত কথা বলতে চায় না মানুষ। আমেরিকানরা এক্ষেত্রেও একেবারেই আলাদা। বারটেন্ডার এমনকি পথের ভিখিরির সাথেও নিজের ব্যক্তিগত গোপন কথা ভাগাভাগি করে নেয় তারা।

#16 বড় মানুষের ছোট প্যান্ট

অনেক দেশেই প্রাপ্তবয়সী মানুষ ছোট প্যান্ট পরলে সেটাকে অভদ্রতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আমেরিকায় তেমনটি নয়। হর হামেশাই আমেরিকানরা শোট প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়ান।

#17 টিপস

আমেরিকার আরেকটি প্রচলিত আদবকেতা হলো টিপস দেওয়া। রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে গেলে ওয়েটারদের টিপস দেবেন এমন আমেরিকান খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

#18 উচ্চারণ

আমেরিকানদের শব্দ উচ্চারণও তাদের চেনার আরেকটি মোক্ষম উপায়। আমেরিকানদের কথার উচ্চারণকে অনেকেই ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ইংরেজী ভাষা হলেও দেখা যায় যে, ব্রিটিশ কিংবা অন্য ইংরেজীভাষাভাষী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের উচ্চারণ একেবারেই মেলে না।

#19 বিদেশি ভাষা অজানা

বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ মাতৃভাষার পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেকটি ভাষা শিখলেও আমেরিকানরা সেটা করেন না। নিজের ভাষার বাইরে অন্য ভাষা জানেন এমন আমেরিকান হয়তো ২ শতাংশও পাওয়া যাবে না।

#20 উচ্চস্বর

ব্রিটিশরা সাধারণত নিচুস্বরে কথা বলতে পছন্দ করেন। কিন্তু আমেরিকানরা তেম্নটা নয়। উচ্চস্বরে কথা বলে আশপাশ মাতিয়ে রাখতেই তারা বেশি পছন্দ করেন।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

সৌন্দর্যচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা ফিটনেস!!!!

US CITIZENSHIP TEST (Open list) (2 submissions)