in

ইউটুবাররা আসলে কত আয় করে?

আমার বাচ্চারা তখন অনেক ছোট যখন আমি প্রথমবারের মত ইউটিউবের সত্যিকারের সম্ভাবনার কথা অনুভব করলাম। বাচ্চাদের কেউ কেউ মেঝেতে বসে মুগ্ধ হয়ে টেলিভিশনে একজন বয়স্ক মানুষকে খেলনা দিয়ে খেলতে দেখছিল। আমি ভাবছিলাম, এটা কি চলছে? এটা কিসের ভিডিও? এবং বাচ্চারাই বা এটা কেন দেখছে?

গুগল মামাকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম, এটা  Ryan ToysReview চ্যানেলের একটি ভিডিও। চ্যানেলটি খুবই জনপ্রিয়। এখানে রায়ান বা চ্যানেলের কেউ খেলনা নিয়ে খেলে যাতে শিশুরা এটা দেখে খেলনা নিয়ে কিছু শিখতে পারে। এটা খুবই অদ্ভুদ ছিল এবং আমি ভাবছিলাম, এতে তো কোন ক্ষতিও হচ্ছে না।

অল্প কিছুদিনের মদ্ধ্যেই আমি জানতে পারলাম এটা নিতান্তই শখের কোন ভিডিও নয়।  Ryan ToysReview চ্যানেলটি ভিডিও দিয়ে টাকা আয় করছে। কারণ আমি দেখেছিলাম চ্যানেলটির ১ কোটিরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

এটা অবাক করার মত যে, Ryan ToysReview চ্যানেলের ফলোয়ার সংখা এখন প্রায় দুই কোটি! ২০১৮ সালে চ্যানেলটির আয় ছিল দুই কোটি বিশ লাখ ডলার, শুধু ভিডিও দেখে যা বিশ্বাস করা প্রায় অসম্ভব। আমার পক্ষে তো নয়ই।

ইউটুবাররা আসলে কত আয় করে?

গত কয়েক বছরে আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে আমি Wealth Hacker নামে আমার ইউটিউব চ্যানেল চালু করি। কিন্তু মানুষের আকর্ষন টানতে অনেক সময় লেগে গিয়েছে।

এই সময়ের মদ্ধ্যে আমি ইউটুবারদের আয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি। এবং দেখেছি সবচেয়ে সফল কন্টেন্ট নির্মাতাদের তাদের বার্ষিক আয় কয়েক মিলিয়ন ডলারে বাড়িয়ে তুলতে কী লাগে।

আমি যাদের ফলো করেছি, তাদের মদ্ধ্যে কয়েকজনকে দেখেছি কিভাবে বছরের পর বছর ধরে তাদের অনলাইন প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এমিলি নয়েল নামের একজন ইউটিউব তারকা আমাকে খুব প্রভাবিত করেছিল। যদিও সে তার চ্যানেলটি ২০০৬ সালেই চালু করেছিল।

এমিলি তখন এবিসির সকালের একটি অধিবেশনের উপস্থাপনা করত ইলিওনে যেখানে আমিও থাকতাম। কিন্তু সে সেখানে একটি মেকআপ-কেন্দ্রিক ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেছিলেন

সময়ের সাথে সাথে, সে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে সে তার পুরো সময় মেকআপ ভিডিও তৈরি করতে তার চাকরিও ছেড়ে দিতে পারেন। এমিলি ডিহলের  (এমিলি নয়েল তার ইউটিউবের ইউজার নেম) এখন ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার ১০ লক্ষের বেশি। পাশাপাশি এমিলি এডিট নামে তার নিজস্ব মেকআপ লাইন রয়েছে যা আপনি বিউটি স্টোরগুলিতে কিনতে পারবেন।

ইউটিউব দম্পতি অ্যান্ড্রু এবং শন জনসন, যাদের আমি ফলো করতাম। আপনি শনকে একজন অলিম্পিক জিমন্যাস্ট হিসেবে চিনতে পারেন এবং “Dancing with the Stars” এর একজন নাচের প্রতিযোগী হিসাবে মনে করতে পারেন। দুর্দান্ত এই জুটির বর্তমানে ইউটিউবে ৭ লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন উপায়ে তাদের সম্পদ উপায়ে বাড়ানোর জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন।

একটি সাক্ষাতকারে শন আমাকে বলেছিল, “ইউটিউব আমাদের জন্য দুর্দান্ত একটি যন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে আয়ের পদ্ধতিও পরিবর্তন হয়েছে। তারা যখন তাদের ফ্যানদের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে ইউটিউব ব্যবহার শুরু করেছিল, তারা শিখেছে যে তারা তাদের পছন্দসই সামগ্রী তৈরি করেই আয় করতে পারে। এখন তো তারা বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং অনুমোদিত ডিলের মাধ্যমে অর্থোপার্জন করে।

তবে এমিলি, রায়ান টয়েস ভিউ এবং শন ও অ্যান্ড্রু জনসনই আজ ইউটিউবে আয় করা চ্যানেল নয়। ফোর্বস আসলে ২০১৮ সালের সর্বাধিক আয় করা ইউটিউব তারকাদের রূপরেখা দিয়েছে, এবং তাদের তালিকাটিই আইসবার্গের মূল অংশ।

এখানে ইউটিউবের কয়েকজন আকর্ষনীয় (এবং ধনী) তারকাদের কথা বলব যাদের সম্পর্কে আপনাদের জানা উচিত।

 লোগান পল

লোগান পল তার ইউটিউব চ্যানেলটি ২০১৫ সালে শুরু করেছিলেন, তবে তার চ্যানেলটি জনপ্রিয় হতে বেশি সময় নেয় নি। ২০১৯ সালের প্রথম দিকেই তার প্রায় দুই কোটি সাবস্ক্রাইবার হয় এবং ফোর্বসের প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে তার আয় হয়েছে প্রায় দেড় কোটি ডলার।

লোগান পল কী সম্পর্কে কথা বলেন? তিনি বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দর্শকদের চমকে দেওয়ার মত প্রচুর পরিমাণের প্র্যাঙ্ক করেন যা আমাদের পাঠকদের পড়ার মত উপযুক্ত নয়।

আলফা মেল

আলফা মেল এর ইউটিউব চ্যানেলের প্রায় ৫০ লক্ষ গ্রাহক রয়েছে, তার ভিডিওগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেই তাকে পুরুষের আত্মবিশ্বাস, সাফল্যের জন্য কীভাবে পোশাক পরা যায় এবং ট্যাটু ডু’স ও ডন্ট’সের মতো উদ্ভট বিষয়গুলি সম্পর্কে শুনতে পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠাতা অ্যারন মেরিনো শার্ক ট্যাঙ্কে একবার নয় দু দু’বার প্রদর্শিত হয়েছে! আলফা মেল প্রতি বছর কত আয় করে তা নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও শার্ক ট্যাঙ্ক বিনিয়োগকারীরা জিকিউ অনুসারে ২০১৬ সালে তার নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১০% পণ্যের জন্য তাকে ১০০০০০ ডলার অফার করেছিলেন।

পিউডাইপাই

পিউডাইপাই হলেন একজন সুইডিশ গেমার, যিনি ২০১০ সালে তার ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার পর থেকেই অনলাইনে তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। ২০১৮ সালে  ৯ কোটিরও বেশি  ফলোয়ারদের সাথে অনলাইনে ভিডিও গেম খেলে তিনি দেড় কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছেন।

জেফ্রি স্টার

জেফ্রি স্টার এমন একটি ড্রাগ কুইন এবং মেকআপ মোঘল, যিনি ২০১৮ সালে শুধু  মেকআপ ভিডিও এবং টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি ডলার আয় করেছেন।

জেফ্রি স্টার কসমেটিক্স চালু করতে এই ইউটিউব তারকা একটি ইউটিউব চ্যানেল উপস্থাপন করেছিলেন, যা থেকে ফোর্বস এর অনুমান অনুযায়ি তিনি প্রতি বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন।

জ্যাক পল

লোগান পলের ভাই জ্যাক পল, ২০১৮ সালে২১.৫ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন। তার আয়ের কিছু অংশ এসেছে তার ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করা মারাত্মক ঠাট্টার ভিডিও এবং র‌্যাপ গান থেকে, তবে জ্যাক নিজের ফ্যানজয় ওয়েবসাইটেও পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

বিশ্বের নামিদামি তারকাদের মজার মজার সব ছবি।

৯০ দশকের কিছু মজার টিভি চরিত্র।