in

একজন সাধারণ ছেলে থেকে যেভাবে নগর বাউল জেমস হলেন।

হ্যাংলা পাতলা ছেলেটা, বয়েসের তুলনায় খানিকটা লম্বা। তার দু চোখে সীমানায় গোপন কিছু  স্বপ্ন উড়ে বেরায় সারাক্ষণ। এক পলক তাকিয়ে বোঝা মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা একটুকরো অগ্নি লাভা জ্বলছে। বাবা ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তার ছেলের পড়াশোনায় মন নেই আকদম ই। পড়াশোনা পেতে শুরু করে ডাব্বা। পরীক্ষার আগের দিন রাত্রে বন্ধুর বাসায় লুকিয়ে রাখা গিটার নিয়ে শুরু করে গান। 

তার বাবা বুজতে পারে আর যাই হোক এই ছেলেকে দিয়ে পড়াশোনা আর হবে না। কিন্তু তার বাবা কি কখনো জানতো কিছু দিন পর ই সারা দেশের মানুষ তার অন্ধ ভক্ত হয়ে যাবে তার গানের, তার নাম জেমস, তার পুরো নাম ফাহারুক মাহাফুজ আনাম। তার বাবা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। তার একটি জনপ্রিয় গান বাবা কত দিন দেখি নি তমায়। কিন্তু এই গানটি তার বাবাকে শোনানো নয় নি। তত দিনে তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে এ। ঘর ছাড়ার পর জেমস উঠলেন চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং। এই আজিজ বোর্ডিং নিয়ে জেমস একটি গান করেন। ফিলিংস নামের একটা ব্যান্ডের হয়ে পারফম করতেন জেমস। 

১২ ফিট বাই ১২ ফিট একটি ছোট ঘরে গানের প্র্যাকটিস হতো গানের। অনেক অনবদ্ধ গানের সৃষ্টি হয় এই আজিজ বোর্ডিং থেকে। রুম আচ্ছন্ন হয়ে থাকতো সস্থা সিগারেটের ধোঁওয়াতে, রাতে নাইট ক্লাব এ চলতো গিটার বাজানো, এখনো এইসব কথা বলতে যেয়ে জেমস সৃতিকাতর হয়ে পরেন জেমস। এরপর চলে আসেন ঢাকাতে। ৯০ দশকে জেল থেকে বলছি অ্যালবামটি বের করে মোটামটি কাপিয়ে দিলেন তিনি। লোক মুখে তার গান শোনা জেত তখন। বস্তি থেকে থেকে পাঁচতারা হোটেল, সব জায়গাতে লুফে নিল তার গান। ১৯৯৫ তে আরেক হিট অ্যালবাম এলো প্রিয় আকাশি। তরুনদের এই গান ছিল নেশার মত। এর পর শুরু হয় তার একটার পর একটা কাঁপিয়ে দেয়ার মত অ্যালবাম, দুঃখিনী দুঃখ করো না, নগর বাউল, ঠিক আছে বন্ধু, একটার পর একটা হিট গান, লিখতে পারি না, বিবাগী, যেদিন বন্ধু চলে যাবো, চারিদিকে শুধু জেমস র জেমস। 

এরি মধ্যে একদল মানুষ বলতে শুরু করলো বাঙলা গানের নামে তিনি সঙ্গিত নষ্ট করে দিচ্ছেন। তাদের দাত ভাঙা জবাব দিলেন। প্রায়ত কবি শামসুর রহমানের কবিতা থেকে তিনি গান করলেন। সুন্দরিতমা আমার কবিতা থেকে, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেবো তুমি আমার। কিছুদিন বেক্তিগত জামেলায় মন দিতে পারেননি গানে। এর পর ফিরে এবার। এবার বাঙলা নয়, বলিউডে পেলে ব্যাক করলেন তিনি। ভিগি ভিগ সি যে রাতে, এই গানটি বলিউডে ব্যাপক সারা ফেলে দেয়। বলিউডের টপ চার্ট ও ছিল অনেক দিন। 

এরপর বেশ কিছু গান তিনি হিন্দি গান করেন। অনেক দিন ধরে তিনি নতুন এ্যালবাম বের করছেন না। তার মতে অডিও গানের প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মত আর নেই। তাই তিনি অ্যালবাম করা নিয়ে তেমন উৎসাহ পাচ্ছন না। তাই তার পুরনো গান নিয়ে দেশ বিদেশে কনসার্ট করে যাচ্ছেন। ফুটফুটে দুই কন্যার জনক তিনি। মেয়েদের তিনি তার সহধর্মিণী থাকেন আমেরিকায়। সময় পেলে তিনিও চুলে যান সেখানে। সেই ৯০ দশক থেকে ফিতার ক্যাসেট জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্যাসেট কেনা। অনেকের মনে এখনো দাগ কেটে যায় সৃতিগুলো ভাবলে। এই দশকের ও তরুণদের কাছে সমান ভাবে প্রিয়। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গিতজগতের একটি জ্বলন্ত নক্ষত্র।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

ঘুমের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কে হলে করনীয়।

এই ৫টি বিষয় জানা থাকলে, আর ভয় নেই || করোনা ভাইরাস | প্রতিকারের