in

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে দৌড়ান – করোনা ভাইরাস।

রহস্যময় করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চীনে। ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুর পর দেশের পাঁচ শহরে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে চীন সরকার। সতর্কতায় বেজিংয়ের নির্দেশ, ওই পাঁচ শহরে কোনও বিমান ওঠানামা করবে না। ট্রেন ছাড়বে না। বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, খুব প্রয়োজন ছাড়া শহরের বাইরে না বেরোতে। এমন কি নববর্ষের অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন ইভেন্ট ক্যান্সেল করা হয়েছে। দর্শক আপনা হয়ত প্রশ্ন আসতে পারে, সেই চীনের ভাইরাস নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যাথা কিসের? জ্বি.. প্রানঘাতী এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত ১৭টা দেশে ছড়িয়ে পরেছে। ভারতেই করোনাভাইরাস আক্রন্ত সনাক্ত করা হয়েছে। আমাদের বেনাপোল বর্ডারেও সতর্কতা জাড়ি করা হয়েছে, সাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে কারো মধ্যে কারোনাভাইরাসের লক্ষন ধরা পরলে যেন, দ্রুত ইনফর্ম করে। বুঝন অবস্থা! আমাদের আজকের আয়োজন কারোনা ভাইরাস নিয়ে ই চলুন বিস্তারিত জানা যাক

চীনের মতো অদ্ভুত এবং উদ্ভাবনী দেশ আর নেই। সারা বিশ্বে বন্যপ্রাণীদের প্রতি তাদের অদ্ভুত ভালোবাসা রয়েছে আর সেই জন্যেই কুমির, সজারু, নেকড়,  সাপ, বাদুর, শুকর, ময়ূর, ভাল্লুক, কাঠবিড়ালি, কুকুরসহ প্রায় একশো দশ প্রজাতির বন্য প্রাণীর মাংস সেখানকার মানুষরা খেয়ে থাকে। গবেষণা বলছে সত্তর ভাগ সংক্রামক রোগ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর মাংস থেকে বিস্তার ঘটে থাকে।

জানলে অবাক হবেন শহরের মাছ মাংসের এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে আছে ভয়াবহভাবে! এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর মাংস বেআইনিভাবে বিক্রি হতো। যারই ফলাফল, আজ তাদের দেশ প্রায় একটি মৃতপুরীতে রূপান্তরিত হয়েছে। বিদেশে আক্রান্তদের বেশিরভাগই চীন ফেরত। এখন পর্যন্ত প্রায় কয়েক হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কয়েক শত  মারা গিয়েছে। বিষয়টা সত্যিই ভয়ংকর! সংখ্যাগুলো হয়তো আরও বেড়ে যাবে খুব দ্রুতই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ গুলো খুবই সাধারণ। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর জ্বর ভাব হচ্ছে এর প্রধান লক্ষণ এবং ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণে লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণই হচ্ছে জ্বর, তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি সমস্যা। যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন তাই এর কোনো টিকা বা ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা হয় নি। এমন কি এমন কোনো কিছু নেই যা এই রোগ ঠেকাতে পারে। তবে একমাত্র উপায় হলো যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে বা এই ভাইরাস বহন করছে তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। তাছাড়া ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন বারবার হাত দিয়ে নাক মুখ স্পর্শ না করা, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পড়া।

চীনের উহান শহরে করোনা ভাই আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে কমপক্ষে পনেরো জন চিকিৎসাকর্মী নিজেরাই এতে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো সারা বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়েছে করনা ভাইরাস গুজব। বাড়তি নিরাপত্তা এবং সতর্কতা এমন ভাবে নেওয়া হয়েছে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যেখান থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে সেখানে প্রায় এক দশ লক্ষ মানুষের বাস। অনির্দিষ্ট কালের জন্য ট্রেন চলাচল বিমান পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। রাতের দিকে আরও দুটি শহরে এই ঘোষণার আওতায় আনা হয় ট্রেন বিমানের পাশাপাশি ফেরি বাস বন্ধ এইসব শহরে। স্টেশন গুলোতে নামানো হয়েছে সেনা পুলিশ। স্টেশনের প্রবেশপথে গারড্রেইল বসানো হয়েছে। 

চিনা নববর্ষে প্রবাসীরা দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর উৎসবে মেতে ওঠে। চীন জুড়ে স্টেশন ও গুলিতে উপচে পড়া ভিড় আর ভিড়। সেই দৃশ্যটি এবার  আর নেই। তার প্রধান কারণ ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ করোনা ভাইরাস।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

নতুন এই ৫টি আবিষ্কারের কাজ দেখলে মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন।

৫ ধর্মের ৫টি ধর্মীয় মিলনমেলা।