in

দুবাই এর ৯টি অদ্ভুত ও উদ্ভট ব্যাপার।

দুবাই- কারো কাছে স্বপ্ন নগরী, কারো কাছে আবার পৃথিবীর বুকেই এক টুকরো স্বর্গ। এশিয়ার লাস ভেগাস নামেও ডেকে থাকেন অনেকে। দুবাই এমনই এক শহর, নতুনত্ব, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা যেখানে হাতছানি দেয় প্রতিটা জায়গায়। এমন অনেক অদ্ভুত জিনিস আছে, যা আপনি বিশ্বের আর কোথাও পাবেন না, সেসবের দেখা পাওয়া যাবে শুধু দুবাইতেই। যেগুলোর কথা শুনলে বিস্ময়ে হয়তো মুখ হা হয়ে যাবে আপনার, অবাক হয়ে ভাববেন, এও আবার সম্ভব নাকি! দুবাইয়ের অবাক করে দেয়া দশটি ব্যাপার নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন,যে বিষয়গুলো আপনি এর আগে কোথাও শুনেন নি…. চলুন শুরু করা যাক…

#1 এক

দুবাই ধনী শহর। লোকে এটিএম  মেশিন  থেকে টাকা বের করে আর দুবাইয়ের লোকে বের করে স্বর্ণ। সন্দেহ হচ্ছে? হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও কথাটা পুরোপুরি সত্য। এই শহরের এটিএম  মেশিন গুলোতে ক্যাশ টাকার পাশাপাশি থাকে রাশি রাশি স্বর্ণ। দুবাইয়ের মানুষের কাছে যে পরিমান টাকা তাতে দু চার কেজি স্বর্ণ ব্যাগে নিয়ে ঘোরা টা তাদের জন্য কোনো ব্যাপারই না। 

#2 দুই

দুবাই ধনী শহর এটা যেমন সত্যি, তেমন দুবাইয়ের অনেক মানুষকে দুবেলা ভাত জোটে কষ্ট করতে হয় এটাও সত্য।নবম নামের একটা রেস্টুরেন্ট আছে দুবাইতে তারা গরিব মানুষের জন্য দুই বেলা ত্রি খাবার দিয়ে থাকে পুরো বছর জুড়ে। তবে শর্ত হচ্ছে, আপনি যখন টাকা পয়সা আদায় করা শুরু করবেন তখন এসে ঋণ চুকিয়ে দিতে হবে।

#3 তিন

লোকে বাসা-বাড়িতে কুকুর বেড়াল পোষে। ইউরোপ আমেরিকায় সঙ্গে কুকুর নিয়ে বের হতে দেখা যায় অনেককেই। আর দুবাইতে গেলে দেখবেন আস্ত একটা বাঘের বাচ্চা কাঁধে নিয়ে ঘুরছে কেউ কেউ। আবার কারো একপ্রান্তে বাঁধা গাড়ির পিছনে যদি বিশাল একটা সিংহ কে বসে থাকতে দেখেন, সিনেমার কোনো শুটিং ভেবে ভুল করবেন না। মোটেও না। এটা দুবাইয়ের ধনীদের অদ্ভুত খেয়াল। বাঘ সিংহ পোশাকে তারা নিজেদের একটা শখ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

#4 চার

আপনি কি জানেন? পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্কাই গ্রাউন্ডটা দুবাইতে অবস্থিত। এটা হয়তো আপনি জানতেন না জানার কথা ও না। মরুর শহর দুবাই যেখানে তাপমাত্রা থাকে পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রির উপরে সেখানে আবার বরফে ঢাকা স্কাই গ্রাউন্ড কোথা থেকে আসবে! কিন্তু প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম শীতলতা ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে এই সনোগ্রাম । হলিউডের ফিল্ম  স্টার  রা ছুটি কাটাতে দুবাইতে এলে এটা হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে প্রিয় বিনোদনের জায়গা। আর দুবাইয়ের লোকজনদের কাছে এটি আরেকটা শখের বিষয়।

#5 পাঁচ

দুবাইতে গাড়ির রাস্তায় জ্যাম হয়ে বসে আছেন? দেখবেন দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে ফেরারি, মার্সিডিজ, অডি এর মতো দামি গাড়িগুলো। কখনো কোনো সমস্যায় পড়ে থানায় কল করবেন। করলেই দেখবেন ফেরারির লেটেস্ট ভার্সন গাড়ি নিয়ে আপনার দরজায় হাজির হয়েছে দুবাইর পুলিশকে। দেখবেন লাম্বারগিনি, ফেরারির এর মতো চকচকে গাড়িতে চড়ে তারা ছুটছে অপরাধীকে ধরার জন্য। এমন চমকের মুখোমুখি আপনাকে দুবাইতেই হতে হবে।

#6 ছয়

জেমস স্টোনের সিনেমায় তো পানির ওপর দিয়ে চলতে পারা গাড়ি দেখেছেন। দুবাইয়ে গেলে সেই গাড়িতে চড়তে পারবেন আপনিও। সেজন্য আপনাকে জেমস স্টোন হতে হবে না। আপনাকে পকেটের টাকা থাকলে বিশেষ ভাবে নির্মিত এই গাড়ি নিয়ে ছুট লাগাতে পারেন দুবাইয়ের প্রশস্ত রাস্তায়। আর ভালো রাস্তা না থাকলে স্বচ্ছপানির লেকতো আছেই! সেখানে ডুবে মরবেন না গ্যারান্টি দিচ্ছি।

#7 সাত

একবার ভাবুন তো এমন একটা হোটেল রুম এ আপনি থাকছেন যেটা চারপাশ কাচ দিয়ে ঘেরা আর সেই কাচের বাইরে একুরিয়াম। নানা রকমের সামুদ্রিক প্রাণীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে। অপার্থিব এক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে! সেই মুহূর্তটাকে কি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন আপনি? এই বিলাসিতার সুযোগ পৃথিবীর বুকে আপনি শুধু দুবাইতে গেলেই পাবেন। তবে সেজন্যে গুনতে হবে মোটা অংকের টাকা! দুবাইয়ের বিভিন্ন শপিংমলে দেওয়ালে সঙ্গেও এই কৃত্রিম অ্যাকুরিয়াম এর ব্যবস্থা করা হয়েছে পর্যটক টানার জন্য।

#8 আট

দুবাইতে যাবেন অথচ মরুভূমি সৌন্দর্য মিস হবে তা আবার হয় নাকি?? ডেসার্ট সাফারি ছাড়া তো দুবাই অসম্পূর্ণই! উটের পিঠে চড়ে সাফারি তো সারা বিশ্বে করতে পারবেন, কিন্তু সাদা রঙের দামি সার্ভে তে চড়ে মরুর বালিতে ঝড় তোলার যে উন্মাদনা সেটা দুবাই না গেলে পাওয়া যাবে না কোথাও। সব মিলিয়ে পারফেক্ট একটা প্যাকেজ। বালির মাঝখানে আপনার মনকে শীতলতা দেওয়ার জন্য একটা ডেসার্ট সাফারিই যথেষ্ট।

#9 নয়

সাগরের বুকে  পাম গাছের ডিজাইন এ তৈরি করা হয়েছে একটি দ্বীপ। তার পাশে রয়েছে ওয়ার্ল্ড  আইল্যান্ড। এটাও কৃত্রিম, কিন্তু বিনোদনের অপার ভান্ডার দুটো জায়গাতেই। খানিকটা উপর থেকে এই দুটো দ্বীপের ভিউ  দেখলে মনটা ভরে যাবে। একটা দ্বীপ চাইলে আপনি ভাড়া নিয়ে ও কয়েকটা দিন নির্জনতায় কাটিয়ে দিতে পারেন। এখানে এলে আপনার মনে হবে পৃথিবীর বুকে অন্যরকম এক স্বাদ আপনি পেয়ে গেছেন!

একটা জিনিস জানিয়ে রাখি। দুবাই অনন্য অসাধারণ এটা যেমন সত্যি, তেমনি টাকা না থাকলে যে দুবাই আর ঢাকার গুলিস্তানের মধ্যে কোন তফাৎ নেই সেটাও সত্যি। দুবাইয়ের চাকচিক্য, অদ্ভুত রোমাঞ্চ এসব উপভোগ করতে চাইলে পকেট ভারি থাকতে হবে। তা না হলে কিন্তু আপনি দুবাইতে থাকলেও জায়গাটাকে ঢাকার ধোলাইখালে এর মতোই মনে হবে।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

গাম্বিয়াঃ মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো দেশটির গল্প।