in

নতুন এই ৫টি আবিষ্কারের কাজ দেখলে মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন।

প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে প্রতি মূহুর্তে, মানুষের জীবনকে করে তুলছে সহজ, আর আরামদায়ক। আপনিও হয়ত ইতোমধ্যে জানেন, প্রতিনিয়ত আবিষ্কার হওয়া নানা রকম চমকপ্রদ আবিষ্কার সম্পর্কে। কিন্তু এই পর্বে এমন পাচটি আবিষ্কারের কথা বলব, যা শুনে কিংবা দেখে আপনি বিশ্বাস ই করতে পারবেন না, আর পারলেও চোখ কপালে তুলতে বাধ্য হবেন আপনি! লিখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ, কেননা আমরা এমন পাচটি আবিষ্কারের কথা বলেছি যা সত্যিকারেই কাজে আসবে আমাদের জন্যে, সেই সাথে বাংলাদেশেও ব্যাবহার করতে পারবো। চলুন তবে শুরু করা যাক।

#1 RYNO One Wheel Electric Motorcycle

শুরুতেই এক চাকার মোটর সাইকেলের মতো যে বস্তুটার কথা বলবো সেটার নাম রাইনো। পরিবেশ বান্ধব এই বাহনে চড়ে প্রতি ঘন্টায় আপনি ছুটতে পারবেন প্রায় একশো কিলোমিটার গতিতে। স্পিড বাড়ানো বা কমানোর সব ব্যবস্থায় আছে এতে। চালকের ভরসার কোন অসুবিধা যাতে না হয় সে ভাবেই ডিজাইন  করা হয়েছে এই এক চাকার যান টি। বারো বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে যে কেউ চালাতে পারবেন এটি হালকা এই বাহনটি। চালানো মোটেই কঠিন কোনো কাজ নয়। একশো ত্রিশ পাউন্ড  বা পঁয়ষট্টি কেজি ওজনের এই রাইনো কে সঙ্গে নিয়ে আপনি ভ্রমণ করতে পারবেন বাস ট্রেন সবকিছুতেই। 

সঙ্গে সাইকেল বা মোটরসাইকেল  নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চার জনকে বহন করতে পারবেন। এমনকি একটা রাইনো সঙ্গে থাকলে বাসের সিট এর সঙ্গে এটাকে নিয়ে যেখানে খুশি চলে যেতে পারবেন আপনি। আর যদি একটু রোমাঞ্চের ছোঁয়া চান, তাহলে রাইনোতে ফুল চার্জ দিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারবেন দূরের কোনো ভ্রমণে।

#2 Sunnyclist Traveler

গাড়ি চালাতে জ্বালানি লাগবে না এমন কথা কেউ যদি আপনাকে কেউ বলে তাকে নির্ঘাত পাগল ভাববেন। কিন্তু আজ যে গাড়িটার কথা বলব এটা চালানোর জন্য সত্যি কোনো জ্বালানির প্রয়োজন নেই। সনিকলেস নামের এই গাড়িটার ডিজাইন  অনেকটা আমাদের দেশের ব্যাটারি  চালিত অটোরিক্সার মতো, তবে পার্থক্য হচ্ছে পুরো গাড়িটা চলে শক্তিতে অর্থাৎ সোলার প্যানেলের সাহায্যে। মানুষের হাতের নাগালে যাতে গাড়িটার দাম রাখা যায় এজন্য খুব সস্তা কিন্তু টেকসই পণ্য ব্যবহার করে ডিজাইন  করা হয়েছে। 

এই গাড়ির ছাদে বসানো আছে বড়োসড়ো একটা মোটর এবং জেনারেটর। এর মাধ্যমে শক্তি এসে জমা হবে ইঞ্জিন ,  ঘুরবে গাড়ির চাকা। রাতের বেলায় যদি চার্জ ফুরিয়েও যায় চাইলে চালক এবং যাত্রীরা সবাই মিলে যেনো প্যাডেল চেপেও গাড়ি কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, হয়েছে সে ব্যবস্থাও। মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর মধ্যে যাদের গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই তাদের জন্য দারুণ এক বিকল্প হতে চলেছে এই সনিকলেস।

#3 The TRIFAN 600 our first flight

বিমানের সংখ্যা পাল্টে দিতে আসছে ট্রাই ফ্যান সিক্স  হানড্রেড কোম্পানি এয়ারক্রাফট এর বানানো এই ছোটোখাটো আকারে একটি বিমান। এটি হয়ে উঠতে পারে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প ও! পাঁচ দশ বছরের পর হয়তো দেখবেন লোকে মারসিটিজ, বেনজ  বা টেস্ট কার এর পেছনে কারিগরি টাকা খরচ না একটা ট্রাই ফ্যান বিমান কিনে রেখে গিয়েছে বাসার ছাদে কিংবা ঘরের উঠানে।

হ্যাঁ, সত্যি বলছি এই বিমানটা বাসার ছাদ থেকেই ওড়াতে পারবেন আপনি বিমানে ওড়ার বা নামার জন্য ওড়ার বা নামার জন্য লম্বা রানওয়ের দরকার হবে না,  ইয়ারপোর্টের নামার ও কোনো প্রয়োজনই নেই। সেভাবেই এর মেকানিজম  সেট  করা হয়েছে, যাতে ছোট্ট একটা জায়গাতেই অবতরণ করতে পারে আবার সেখান থেকে উঠতে ও পারে। পাঁচজন বসার ব্যবস্থা আছে এর ভেতরে। আশেপাশের শহর বা দূরের কোনো গন্তব্যে পাড়ি দিতে চাইলে ভবিষ্যতে মানুষ গাড়ির পরিবর্তে ট্রাইটান সিক্স হান্ড্রেড  বিমানকেই বেছে নেবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। আধাঘন্টার রাস্তা যদি কয়েক মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যায় কেমন হবে একবার ভাবুন তো!

#4 Barefoot Company FYF Free Your Feet Dyneema Socks Review

এমন একটা মোজা আপনি পায়ে পড়ে আছেন যেটা কিনা ইস্পাতের চেয়েও পনেরো গুণ বেশি শক্ত। টানলেও ছেঁড়া যায়না, পাথরের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে পা কাটে না। দামি জুতোর চেয়েও বেশি দামী এক জোড়া মোজা যেটা পড়লে বাড়তি করে আর জুতো পড়ার দরকার হবে না। আপনারা  এমন কথা শুনলে অবাক হয়ে সবার আগে নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করবেন, ভাই দাম কত? “ফ্রি ইউর ফিট”  নামের এই মোজা বানানো হয়েছে বিশেষ প্রযুক্তিতে। 

যারা দুর্গম জায়গায় ভ্রমণ করেন কিংবা খেলাধুলা করেন তাদের কথা ভেবে তৈরী করা হয়েছে আরামদায়ক এবং নরম এই মোজা। আগুনে পুড়বে না, ছুরিতে কাটবে না, এমনকি পানিতেও ভিজবে না। পাহাড়ে চড়ার জন্য যারা ভালো গ্রুপের জুতা খোঁজেন তারা ফ্রি ইউর ফিট নামের এই মোজা পায় জড়ালে জুতার কথা ভুলে যাবেন নিশ্চিত। বলিউড  ব্যাডমিন্টন  বা বীজ ফুটবল যারা খেলেন কিংবা রোগ প্লাম্বিং এর মতো কঠিন কাজ যারা করেন তাদের জন্য এই মোজা হতে পারে দারূন একটা পছন্দ।

#5 COROS LINX Smart Cycling Helmet in 40 seconds

এবার আসা যাক দৈনন্দিন দরকারি একটা আবিষ্কারের দিকে। সাইকেল তো আমরা কম বেশি সবাই চালাই আর সাইকেলের হেলমেটও প্রায় সবাই ব্যবহার করি। এমন একটা হেলমেট যদি আপনাকে কেউ অফার করে যেটার মাধ্যমে আপনি স্পর্শ করা ছাড়াই কথা বলতে পারবেন,গান শুনতে পারবেন, ফেসবুক  এর নোটিফিকেশান  চেইক করতে পারবেন, এমন কি সেই হেলমেট টাই আপনাকে জানিয়ে দেবে পেছনে বা পাশে কোন গাড়ি আছে কি না, তার গতিবেগ কত, আপনার নিজের বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিনা। 

কেমন লাগবে আপনারা এমন একটা হেলমেট আপনি পেয়ে যান!  “কোরাস লিরিক্স” নামের এই ডিজিটাল হেলমেট টা দেখলে একদম সাদামাটা মনে হবে, তবে ব্যবহার করতে গেলে বুঝবেন এই জিনিসের বিশেষত্ব কোথায়। এটা এক, এর ভেতরে অনেক কিছু! একটা অ্যাপ্লিকেশান  ডাউনলোড করে শুধু ব্লুটুথ  ডিভাইস  এর সঙ্গে হেলমেট টাকে কানেক্ট করতে হবে। তারপর দেখবেন সাইকেল চালানোর সময় আপনার দুনিয়াটাই পাল্টে গেছে। সাইকেল চালিয়ে কত ক্যালোরি বার্ন হলো আপনার থেকে, কত কিলোমিটার ভ্রমণ করলেন সবকিছুই আপনাকে জানাবে এই স্মার্ট হেলমেটটি। ঢাকা শহরের বাইকাররা সবাই যদি এমন হেলমেট ব্যবহার করতেন তাহলে বাইক দুর্ঘটনার পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে আসতো নিশ্চিত। তো দশ প্রযুক্তির রমরমা সব আবিষ্কারের প্রথম পর্ব শেষ হচ্ছে এখানে।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Written by Azaher Ali Rajib

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

গাম্বিয়াঃ মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো দেশটির গল্প।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সাথে সাথে হাসপাতালে দৌড়ান – করোনা ভাইরাস।