in

মানুষ বড় নাকি তার স্বপ্ন? পর্ব ১।

আজ সারাদিন আপনি না খেয়ে বসে আছেন। ক্ষুদায় পেট চো চো করছে। আপনি কামরাঙ্গিচর এর যেই মেসে থাকেন, সেই রুমের টিন ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি পরছে। নতুন ভালো একটা মেসে যাবেন সেই সামর্থ্যও আপনার নেই। বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে টিউশনির টাকা দিয়ে কোনোরকমে ৫০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় এই মেসে উঠেছেন। অসুস্থ মা আর ছোট দুইটা ভাইবোন এর চিন্তায় আপনার অবস্থা খুবই নাজুক। 

এরসাথে যোগ হয়েছে ক্ষুদা। হাল ছেড়ে দিচ্ছেন আপনি। জীবনের নৌকা টা যেন বারবার ফুটো হয়ে যাচ্ছে। আপনার মাথায় জীবনকে বিদায় জানানোর কতগুলো অযৌক্তিক চিন্তা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যে মোবাইল দিয়ে আজকের লেখা টা পড়ছেন সে মোবাইল এর স্ক্রিন টাও উপরের দিকে ফাটা। অনুপ্রেরণা খুজছেন আপনি। অনুপ্রেরণা কি আসলেই কাজে দেয়? নিজের ইচ্ছাশক্তি টাইতো আসল। আসুন আপনার এই ইচ্ছাশক্তির গতিকে আরো বেগবান করতে আমরা এমন কয়েকজন মানুষ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো, যাদের দেখে আপনি হয়তো জীবনের নতুন মানে খুজে পাবেন। আমরা প্রথমেই সেই বিখ্যাত, ধনী কিংবা নিজের ভিত্তি নিজে স্থাপন করে বিশ্বে প্রভাবশালী হওয়া ব্যক্তিদের নাম বলবোনা। পড়তে পড়তে নামগুলো আপ্নিই খুজে নেবেন।

#1 ড. ফিলিপ ক্যালভিন ম্যাকগ্রো।

১. ছেলেটির বয়স যখন বারো বছর ছিলো তখন পরিবারের টানাপোড়েন অবস্থায় গৃহহীন হয়ে বাবার সাথে একটি গাড়িতে বসবাস করতে হয়েছে। পরবর্তীতে সে নিজের প্রচেষ্টায় সাইকোলজিতে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। ১৯৯০ সালে আমেরিকান বিখ্যাত এক টিভি শো তে সে আমন্ত্রণ পায়। তারপর থেকে তার জীবনের চাকা বদলে যায়। বর্তমানে সে আমেরিকার একজন টপক্লাস টক শো হোস্ট। 

#2 সুজ ওরমান।

২. আমেরিকার বিখ্যাত এমি এওয়ার্ড লাভ করেছেন তিনি। বর্তমান বিশ্বের মহিলা  ফিন্যান্স সুপারস্টার হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত। কিন্ত তিনি যখন প্রথম ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন এক বন্ধুর সাথে গাছ পরিষ্কার এর কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ৩০ মিলয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। তিনি বিশ্বে সুজ ওরমান নামে পরিচিত। 

#3 হ্যালি বেরি।

আমেরিকার একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী, যিনি অস্কার বিজয়ী। ২০ বছর বয়সে গৃহহীন এক আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি যখন সেলিব্রেটি হওয়ার স্বপ্ন দেখে নিউইয়র্কে আসলেন তার পরিবার তাকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলো। নিজের প্রচেষ্টায় তিনি নিজের রাস্তা তৈরি করে নিয়েছেন। তার নাম হ্যালি বেরি, যিনি বিখ্যাত হলিউড মুভি "জন উইক - চ্যাপ্টার ৩" এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

#4 জেমস ক্যামেরন।

৪. তিনি যখন "দ্যা টার্মিনেটর" মুভির স্ক্রিপ্ট লিখেন তখন তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। মাত্র ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই এর স্বত্বাধিকার বিক্রি করেছিলেন। যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যবসা করেছিলো! তার নাম জেমস ক্যামেরন! প্রমাণিত হলো "মানুষ স্বপ্নের থেকে অনেক অনেক বড়"

#5 ক্রিস গার্ডনার।

হলিউডের বিখ্যাত এবং সারাবিশ্ব জয় করা চলচ্চিত্র "দ্য পারসুইট অব দ্য হ্যাপিনেস " যার লাইফ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মান করা হয়েছিলো তিনিও ছবিতে দেখানো উইল স্মিথ আর তার ছেলের মত গৃহহীন ছিলেন। তার নাম ক্রিস গার্ডনার।একসময়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় বাস করা ক্রিস আজকে একজন মিলিওনিয়ার। 

#6 ডেনিয়েল ক্রেইগ।

বিশ্বের কাছে জেমস বন্ড হিসেবে হিসেবে সুপরিচিত ডেনিয়েল ক্রেইগ একসময় লন্ডনের এক পার্কের বেঞ্চে ঘুমাতেন। আজ তার সম্পদের পরিমাণ ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

#7 মাইকেল জর্ডান।

নেশাগ্রস্ত মায়ের সন্তান ছিলেন তিনি। কিশোর বয়সের অধিকাংশ সময় কেটেছে অবহেলায়, অযত্নে কিংবা রাস্তায় শুয়ে। তার জীবনের সংগ্রামের, হেরে না যাওয়ার গল্প নিয়ে "The Blind Side" নামে একটা মুভিও নির্মান করা হয়েছে। এই সংগ্রামী ব্যক্তিটি হলে আমেরিকান ন্যাশনাল ফুটবল লীগের অন্যতম সেরা খেলোয়ার মাইকেল জর্ডান ওর।

#8 জেনিফার লোপেজে।

তিনি নৃত্যশিল্পী হতে চাওয়ায় তার মা তাকে ঘরে জায়গা দেয়নি। তিনি পরবর্তীতে বেশ কিছুটা সময় নৃত্যশালার এক নোংরা টেবিলে এবং সোফায় রাত্রি যাপন করেছিলেন। তার একাগ্রতা তাকে আজকের বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী, গায়িকা এবং নৃত্যশিল্পী জেনিফার লোপেজে পরিণত করেছে।

#9 হ্যারি হুডিনি।

বর্তমান সময়ের বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান তিনি। শৈশব কেটেছে বাড়ি থেকে অনেক দূরে মালের গাড়িতে কাজ করার মাধ্যমে। তিনি রাস্তায় ভিক্ষাও করেছেন। ১২ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়া সেই বালক আজকের বিখ্যাত মার্কিন জাদুকর হ্যারি হুডিনি।

#10 চার্লি চ্যাপলিন।

এখন যার কথা বলবো তার জীবন অনেকটা আপনার মতই। বাবাকে হারিয়ে ফেলেন কিশোর বয়সেই। তারপর তার মাকে মেন্টাল হসপিটালে ভর্তি করা হয়। তার বয়স যখন ১০ বছর, তিনি লন্ডনের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষা করতেন প্রতিদিন এর খাবার জোগাড় এর জন্য। তার ছিলো অসাধারণ প্রতিভা। কথা না বলেই মানুষ হাসানোর অসীম প্রতিভা নিয়ে তিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন। তিনি আর কেউ নন বিখ্যাত কমেডিয়ান এবং মূকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন।

কী ভাবছেন? জীবনটা খুব কালো? অপেক্ষা করুন এবং ধৈর্য্য ধরুন। সৃষ্টিকর্তার চেয়ে উত্তম কৌশলী কেউ নাই, ছিলোনা, হবেওনা। সাফল্যের সূর্য খুব শীঘ্রই উদিত হবে।

পার্ট ১।

This post was created with our nice and easy submission form. Create your post!

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

গুগলের চাকরি ছেড়ে সিঙ্গারা ও কাবাব বিক্রেতা !!!

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করলেন মোশাররফ করিম।